Skip to content

ইথিক্যাল হ্যাকিং কি ? ইথিক্যাল হ্যাকিং এর প্রয়োজনীয়তা (what is ethical hacking in Bangla)

আমরা প্রত্যেকেই উপলব্ধি করতে পারছি যে গোটা পৃথিবী কিন্তু ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজ হয়ে যাচ্ছে এবং সমস্ত রকম কাজ অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কিন্তু হ্যাকিংয়ের প্রবণতাও বেড়ে চলেছে।

আমরা কিন্তু প্রায়ই শুনে থাকি ওয়েবসাইট হ্যাক, ইউটিউব চ্যানেলে হ্যাক, ফেসবুক হ্যাক, ইমেইল হ্যাক, ব্যাঙ্কের টাকা গায়েব এরকম ঘটনা অহরহ শুনে থাকি তো এই illegal কাজগুলো করে থাকে হ্যাকাররা। তো আমরা আগের আর্টিকেলে আলোচনা করেছি হ্যাকিং কি ।  তো হ্যাকিং এর একটি অংশও সেটা হচ্ছে ইথিক্যাল হ্যাকিং বর্তমানে এটি খুব জনপ্রিয় একটি টপিক।

তো আজকের আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব ইথিক্যাল হ্যাকিং কি ? ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে কি কি লাগে ? এছাড়া ইথিক্যাল হ্যাকিং বাংলা কোর্স নিয়ে আলোচনা করব। তো আপনি যদি ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আশা করি এই পোস্টে আপনারা ethical hacking সম্পর্কে সমস্ত রকম ধারণা পেয়ে যাবেন।

ইথিক্যাল হ্যাকিং কি (what is ethical hacking in Bengali) :

ইথিক্যাল হ্যাকিং হচ্ছে কম্পিউটার সিস্টেম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের দুর্বলতা বা ত্রুটি গুলো খুঁজে বার করে সেইগুলোর সমাধান করে দেওয়া এবং সেটিকে আরো বেশি secure করে তোলা।

যারা hack করে তাদের কে হ্যাকার বলে । ইথিক্যাল হ্যাকার রা কিন্তু চাইলে হ্যাক করতে পারে কিন্তু সেটা তারা করে না। তারা বৈধভাবে পারমিশন নিয়ে যেকোনো সিস্টেমকে hack করে থাকে কম্পিউটার সিস্টেম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইট কে হাইসিকিউরিটি প্রদানের জন্য।

ইথিক্যাল হ্যাকিং কী  এই ব্যাপারটি আর একটু ভেঙে বললে হয়তো আপনারা ব্যাপারটা ভালো বুঝতে পারবেন আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত এই শুনছি ওয়েবসাইট হ্যাক, কম্পিউটার হ্যাক, মোবাইল হ্যাক ইত্যাদি ঘটনা তো এরকম অবৈধ কাজ করে থাকে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা । তো বড় বড় কোম্পানি বাকি দেশগুলো এই হ্যাকারদের হাত থেকে তাদের ওয়েবসাইট বা তাদের কম্পিউটার সিস্টেম কি রক্ষা করার জন্য বা আরও উন্নত security প্রদানের জন্য ইথিক্যাল হ্যাকার দের কাছে আশ্রয় নেয় এবং তারা সিস্টেমের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বার করে সেগুলোর সমাধান করে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করে।

ইথিক্যাল হ্যাকিং কাকে বলে ?

কোনো কোম্পানির বা এজেন্সির কম্পিউটার সিস্টেমের বা ওয়েবসাইটের ত্রুটি গুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য legal ভাবে পারমিশন নিয়ে হ্যাক করা হ্যাক করাক বলা হয় ইথিক্যাল হাকিং ।

হ্যাকার ও ইথিক্যাল হ্যাকার এর পার্থক্য কি?

Hacker হচ্ছে যারা অবৈধভাবে নিজের স্বার্থে লাভের জন্য কোন কম্পিউটার সিস্টেমকে hack এবং সেই সিস্টেম এর সমস্ত ডেটা চুরি করে নেয় বা নষ্ট করে দেয়।

আর ইথিক্যাল হ্যাকার এর কাজ হল সিস্টেম কে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করো। তারা পারমিশন নিয়ে কম্পিউটার সিস্টেমকে হ্যাক করে high security প্রদান করে।

ইথিক্যাল হ্যাকিং এর গুরুত্ব : 

আসুন আমরা এবার জেনে ethical hacking কেন করা হয়।

• আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন একাউন্ট এবং ডাটাবেস দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকাররা। • Ethical hacking এর গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল হ্যাকারের হাত থেকে আপনার সিস্টেমের ডেটা চুরি বা ধ্বংস করার হাত থেকে রক্ষা করে।

• কোনো কোম্পানি বা দেশে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয়।

• শত্রু রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা তথ্য প্রতিরোধ করতে ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয় এছাড়া সাইবার সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী হামলার হাত থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করে।

• গ্রাহক এবং বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থা অর্জনে সাহায্য করে যাতে পণ্য এবং তার ডাটা secure থাকে।

আশা করি আপনারা ইথিক্যাল হ্যাকিং এর কাজ কি ইতিকাল হ্যাকিং এর সুবিধা গুলো বুঝতে পারলেন।

একজন ইথিক্যাল হ্যাকার কিভাবে কাজ করে ?

যে কোন কোম্পানি বা এজেন্সি একজন ইথিক্যাল হ্যাকার কে হায়ার (hire) করে high security প্রদানের জন্য ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা হ্যাক না করতে পারে। তো ইথিক্যাল হ্যাকার রা বৈধভাবে মালিকের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে প্রথমে কম্পিউটার সিস্টেম, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের ত্রুটি গুলো খুজে বের করে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সেগুলোর সমাধান করে এবং হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করে। এর জন্য মূলত কিন্তু দিন দিন ethical hacker দের চাহিদা বেড়ে চলেছে।

ইথিক্যাল হ্যাকিং কিভাবে শিখব?

আপনারা ইথিক্যাল হ্যাকিং কিভাবে শিখবেন বা ইথিক্যাল হ্যাকিং এবং সাইবার সিকিউরিটি কোর্স  এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব ।

বর্তমানে ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখার অনেক মাধ্যম রয়েছে। চাইলে আপনি বাড়িতে বসে কোন ট্রেনিং সেন্টারে না গিয়ে অনলাইনে ইথিক্যাল হ্যাকিং কোর্স করতে পারবেন।

আপনারা ইথিক্যাল হাকিং ফ্রিতে শিখতে পারেন অথবা কোর্স করে শিখতে পারেন। ইথিক্যাল হ্যাকিং ফ্রী কোর্স ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে সেখান থেকে আপনারা শিখতে পারেন অথবা বিভিন্ন ধরনের ইথিক্যাল হ্যাকিং বই পড়ে আপনারা ধারণা নিতে পারবেন। আপনারা অনলাইনে অনেক ইথিক্যাল হ্যাকিং বই pdf পেয়ে যাবেন সেখান থেকে শিখতে পারেন।

এছাড়া আপনি অনলাইনে কোর্স করে শিখতে পারেন আপনারা গুগলে ethical hacking paid course লিখে সার্চ করলে অনেক পেড কোর্স পেয়ে যাবেন চাইলে আপনারা ভালো করে ভেরিফাই করে রিভিউ দেখে কোর্স কিনে শিখতে পারেন। চাইলে আপনারা udemy তে কোর্স করতে পারেন।

ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে কি কি লাগে ? 

ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখার জন্য আপনার ভালোমতো কম্পিউটার সম্বন্ধে জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়া আপনাকে বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে, Cybersecurity laws সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে, ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে গেলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে।

এই কয়েকটি বিষয়ে আপনার জানা থাকলে ধৈর্য ধরে continue প্রাকটিস করলে  ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে পারবেন।

ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখে কোথায় জব করব

আপনারা ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখে চাইলে যে কোন কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারেন এর জন্য আপনারা প্রতিনিয়ত গুগোল এ সার্চ করবেন ethical hacking job তারপর দেখবেন যে অনেক কোম্পানি ethical hacker দের হায়ার করার জন্য অনেক ওয়েবসাইটে  অ্যাড দিয়েছে এবং আপনি তাদের সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করে ইন্টারভিউ দিতে পারেন।

ইথিক্যাল হ্যাকার এর বেতন কেমন :

ভারত এবং বাংলাদেশ ethical hacker এর বেতন কম হলেও বাইরের দেশে কিন্তু ইথিক্যাল হ্যাকার দের salary বেশ ভালো। ভারত এবং বাংলাদেশ ইথিক্যাল হ্যাকার দের বেতন প্রায় 30000 – 90000 টাকা পর্যন্ত। বাইরের দেশে এদের বেতন অনেকটা বেশি প্রায় 60000 – 200000 টাকা পর্যন্ত।

আশা করি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে ইথিক্যাল হ্যাকার সম্পর্কে সমস্ত রকম ধারণা পেলেন তো ইথিক্যাল হ্যাকিং বলতে কী বুঝাই  এই বিষয় নিয়ে এই আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *