Skip to content

একটানা কাজ না করেও যেভাবে টাকা ইনকাম সম্ভব

প্রতিদিন টানা কাজ না করে আয় বা একবার কাজ করে পর্যায়ক্রমে আয় এর ব্যাপারটিকে আমরা বলি প্যাসিভ ইনকাম। অর্থাৎ আপনি কোনো একটি কাজ একবার করলেন আর এই কাজ এর দ্বারা আপনার অটোমেটিক আয় হবে, এই ধারণার মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যেতে পারে সে সম্পর্কে জানবেন এই পোস্টে।

আগে থেকে বলে রাখা ভালো এখানে আমরা কাজ না করে আয় নয়, বরং একবার কাজ করে তা থেকে আয়ের পথ জানবো। অর্থাৎ আপনার সাধারণ কাজের পাশাপাশি এই কাজগুলো করে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এই ধরনের কাজ করে আয় করবেন তার কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে।

অনলাইন বিজনেস

অটোমেটিক আয় করতে অনলাইন বিজনেস শুরু করা সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে। শুনতে যতটা জটিল লাগে, কাজটি আসলে ততটা কঠিন নয়। প্রথমত অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে অনেক অর্থের যোগান লাগেনা, আবার চাইলে ড্রপশিপিং এর মাধ্যমে অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রি করে কোনো ধরনের প্রোডাক্ট স্টোরেজ সিস্টেম ছাড়াই আয় করা যেতে পারে।

অনলাইন ব্যবসার অসংখ্য ধরন হতে পারে, তার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা যেতে পারে। অনলাইন ব্যবসার সুবিধা হলো আপনার সাধারণ আয়ের পাশাপাশি ফ্রি টাইমে সেই কাজে সময় দিয়ে আয় করতে পারেন, যেহেতু তাতে সার্বক্ষণিক নজরদারির প্রয়োজন নেই। যেকোনো প্রোডাক্ট বিক্রির চিন্তার আগে অন্যান্য বিষয়ে না ভেবে বাজারে উক্ত প্রোডাক্টের চাহিদা সম্পর্কে ভাবুন, তবেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ঘরে বসে আয় কিংবা প্যাসিভ ইনকাম এর সেরা উপায়গুলোর তালিকায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থাকবেনা তা কি করে হয়! অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে হলো মূলত অন্যের প্রোডাক্ট প্রোমোট করে তা বিক্রি হলে কমিশন থেকে আয় করা। এমন নয় যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে আপনার অনেক ভিজিটর আসে এমন ব্লগ কিংবা জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল লাগবে। আপনার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সাথে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করেও আয় করতে পারবেন এই মাধ্যমে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি রাতারাতি বড়লোক তো হয়ে যাবেন না, কিন্তু প্যাসিভ ইনকাম বা কাজ না করে আয় এর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। দেশি বিদেশী অসংখ্য ওয়েবসাইট তাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে একাধিক প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে শুরু করতে পারেন আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার যাত্রা।

কনটেন্ট ক্রিয়েশন

শুধুমাত্র ইউটিউব নয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এমনকি স্ন্যাপচ্যাট বা টিকটক এ পর্যন্ত কনটেন্ট তৈরী করে আয়ের সুযোগ রয়েছে। একই কনটেন্ট তৈরী করে সেটাকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে আয় করে যাচ্ছেন অসংখ্য ক্রিয়েটর। আবার শর্ট ভিডিও এর প্রচলনের ফলে এক্সিস্টিং কনটেন্টকে ছোট করে পোস্ট করে তা থেকেও আয় করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো প্ল্যাটফর্মে থাকা মনিটাইজেশন ফিচার এর পাশাপাশি স্পন্সরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এমনকি প্রোডাক্ট সেল করেও আয় করা যেতে পারে কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে। বর্তমানে হরেক রকমের কনটেন্ট এর ডিমান্ড রয়েছে, তাই যেকোনো ধরনের কনটেন্ট নিয়ে ধৈর্য ধরে কোয়ালিটি মেইনটেইন করে কাজ করে গেলে সফলতা আসবেই।

প্রিন্ট অন-ডিমান্ড

বর্তমানে অনলাইনে কাপড় বিক্রির এক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অসংখ্য ফেসবুক পেজ তাদের নিজস্ব ধাঁচের ডিজাইন প্রোমোট করে ঠিকই আয় করে নিচ্ছে। অনলাইন ব্যবসার এই জগতে পা রাখতে পারেন আপনিও। নির্দিষ্ট কোনো ডিজাইন বা নিশ সিলেক্ট করে তার উপর অন-ডিমান্ড প্রোডাক্ট ডিজাইন করে সেগুলো সেল করে আপনার একটি নির্দিষ্ট কাস্টমার বেস তৈরী করতে পারেন। আপনি যদি কোয়ালিটি ও কাস্টমারের চাহিদা ঠিকভাবে পূরণ করতে পারেন, তবে এই ক্ষেত্রে রিপিট কাস্টমার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সর্বাধিক।

অন্যদের শেখানো

কোনো কাজ ভালো পারেন? জরুরি নয় সেই কাজ থেকেই আয় করবেন। উক্ত কাজ অন্যদের শিখিয়েও আয় করা যেতে পারে। আর এই শেখানোর মাধ্যমে হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব এর মত কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম, কিংবা ইবুক, এমনকি অনলাইন কোর্স। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো কাজে পারদর্শী হয়ে থাকেন, তবে তা থেকে আয়ের একাধিক পথ রয়েছে। তাই আপনার দক্ষতা ব্যবহার করে আয়ের পথ এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে একাধিক উপায়ে আয়ের চেষ্টা করতে পারেন অন্যদের শিখিয়ে।

ব্লগিং

ব্লগ থেকে আয় করা যায়, এই কথা কারোই অজানা নয়। একটি ব্লগ খুলে সেখান থেকে আয়ের একাধিক পথ রয়েছে। ভিডিও কনটেন্ট এর মত ব্লগ থেকে আয় করা যেতে পারে বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এমনকি স্পন্সরড পোস্ট থেকেও। ব্লগিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই লেখালেখি, কনটেন্ট মার্কেটিং, এসইও, এসব জ্ঞান থাকা জরুরি। তবে একবার ঠিকঠাক ট্রাফিক আসা শুরু করলে উল্লেখিত উপায়গুলো অনুসরণ করে ব্লগিং থেকে আয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সারাক্ষণ কাজের প্রয়োজন হয়না, আপনার যথাযথ দক্ষতা থাকলে ডিজিটাল মার্কেটিং অল্প সময়ে কাজ করে আয় করতে পারেন মোটা অংকের অর্থ৷ তাই আপনার অন্য যেকোনো কাজের পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং করেও আয় করতে পারেন।

স্টক ফটো / ভিডিও / ডিজাইন বিক্রি

কনটেন্ট এর ডিমান্ড ও ক্রিয়েশন যেমন বেড়েছে, একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্টক ফট, ভিডিও ও ডিজাইন এর চাহিদা। কনটেন্ট তৈরী করতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরগণ বিভিন্ন স্টক ফটোগ্রাফি, ভিডিও ও ডিজাইনের ওয়েবসাইটে ভিড় করছেন ম্যাটেরিয়াল খুঁজতে। আর এসব তৈরী যদি আপনার দক্ষতার মধ্যে পড়ে তাহলে এগুলো স্টক অ্যাসেট সাইটে বিক্রি করে আরামসে আয় করতে পারেন। প্যাসিভ ইনকাম বা একটিভলি কাজ না করে আয় এর সেরা মাধ্যমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

এইতো গেলো অনলাইনে আয় এর কিছু কার্যকরী উপায় যা থেকে যেকেউ আয় করতে পারে। তবে বলে রাখা ভালো উল্লেখিত প্রত্যেকটি কাজে ধৈর্য ও অধ্যাবসায় এর প্রয়োজন হবে। আপনি যদি ভাবেন যেকোনো একটি কাজ অল্প দিন করে আপনি রাতারাতি অনেক টাকা আয় করবেন তাহলে সেটা ভুল হবে। উল্লেখিত যেকোনো মাধ্যম থেকে আয় করতে প্রয়োজন হবে দক্ষতা ও ইচ্ছাশক্তির, যার সাথে ধৈর্য যুক্ত থাকলে আপনার আয়ের পথ সুগম হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *